Wellcome to National Portal
বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
Text size A A A
Color C C C C

সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১৮ ডিসেম্বর ২০২২

ইতিহাস ও কার্যাবলি

ইতিহাস :

বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের পরিচিতি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রচীনতম প্রতিষ্ঠান বাংলাদশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদ। ১৯৫৬ সালের ২ জানুয়ারি এ প্রতিষ্ঠানের জন্ম। ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠানটি গৌরবের ৬৪ বছর অতিক্রম করেছে। স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময়ে গঠিত প্রাচীন এই প্রতিষ্ঠানের রয়েছে সুদীর্ঘ ইতিহাস। সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রমে জাতীয় চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ১৯৫৬ সালে তৎকালীন কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকার কর্তৃক একটি  রেজুল্যুশনের মাধ্যমে গঠিত হয়েছিল জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদ। পরবর্তীতে প্রাদেশিক পূর্ব পাকিস্তান সরকার পূর্ব পাকিস্তান সমাজকল্যাণ পরিষদ গঠন করে । বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা নিরসনে সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রম, অনুদান কর্মসূচি, স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা, জরিপ, গবেষণা ও মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করার লক্ষ্যে এ প্রতিষ্ঠানের জন্ম হয়। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর শাসনামলে ১৯৭২ সালে রেজুল্যুশন পরিবর্তনের  মাধ্যমে এ প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হয় বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদ। যুদ্ধোত্তর  দেশে উদ্ভুত বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে এ প্রতিষ্ঠান নিরলসভাবে কাজ  করে যাচ্ছে। সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রমের পরিধি বৃদ্ধির লক্ষ্যে পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে এ রেজুল্যুশন সংশোধন করা  হয়েছে। ২৯ এপ্রিল,২০১৯ খ্রিস্টাব্দে মহান জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদ আইন-২০১৯ পাশ হয়েছে। এ আইন অনুযায়ী বিধিমালা তৈরি করে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। চাকুরিবিধি  তৈরির কাজ চলমান আছে। আশা করা যায়, খুব শীঘ্রই বিধিমালা,চাকুরি বিধিমালা তৈরি, অনুমোদন ও প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদ আইন-২০১৯ পুরোপুরি কার্যকর হবে। বাংলাদশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদ পরিচালনা বোর্ডের বর্তমান সদস্য সংখ্যা ৮৪ জন। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মাননীয় মন্ত্রী পরিচালনা বোর্ডের সভাপতি, মাননীয় প্রতিমন্ত্রী পরিচালনা বোর্ডের  সহসভাপতি । সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মহোদয়ের নেতৃত্বে পরিষদের সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য ১৯ সদস্য বিশিষ্ট একটি নির্বাহী কমিটি রয়েছে। পরিষদ পরিচালনা বোর্ড ও নির্বাহী কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সচিব। পরিষদের লক্ষ্য ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য দেশের সকল জেলায় ‘জেলা সমাজকল্যাণ কমিটি’ এবং উপজেলায় ‘উপজেলা সমাজকল্যাণ কমিটি’ রয়েছে। তিনটি পার্বত্য জেলা ব্যতীত জেলা সমাজকল্যাণ কমিটির সভাপতি সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক ও সদস্য সচিব জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক। রাংগামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলাসমূহে সমাজকল্যাণ পরিষদের সভাপতি সংশ্লিষ্ট পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। পার্বত্যজেলাসমূহে জেলা সমাজকল্যাণ কমিটির সদস্য সচিব অন্যান্য জেলার ন্যায় উপপরিচালক, সংশ্লিষ্ট জেলা সমাজসেবা কার্যালয়। উপজেলা সমাজকল্যাণ কমিটির  সভাপতি সংশ্লিষ্ট উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সদস্য সচিব সংশ্লিষ্ট উপজেলার উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা। মাঠ পর্যায়ে পরিষদের নিজস্ব কোন কার্যালয় ও জনবল না থাকায় সমাজসেবা অধিদফতরের অধীন জেলা ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে পরিষদের মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম পরিচালনা ও বাস্তবায়ন করে থাকে।

পরিষদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য :
 
(১) লক্ষ্য : যত্নশীল, নিরাপদ ও উন্নত সমাজ বিনির্মান।
 
(২) উদ্দেশ্য :
(ক) সমাজকল্যাণমূলক নীতি নির্ধারণে সরকারকে পরামর্শ প্রদান;
(খ) সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রমে ব্যক্তি, গোষ্ঠী, প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে উৎসাহ প্রদান এবং আর্থিক, কারিগরী ও  পরামর্শমূলক সহায়তা, অনুদান ও স্বীকৃতি প্রদান ; 
(গ) সামাজিক সমস্যা চিহ্নিতকরণ, সমস্যার কারণ এবং প্রতিকারের উপায় নিরুপনে জরিপ, গবেষণা পরিচালনা ও গবেষণায় সহায়তা প্রদান এবং নতুন ধারণা, উপায় ও কৌশল উদ্ভাবন ;
(ঘ) সামাজিক  বিষয়ে জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক পর্যায়ে সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রমে স¤পৃক্ত সকল ব্যক্তি/গোষ্ঠী/সংস্থার মধ্যে সমন্বয় সাধন এবং তথ্য, কৌশল, কর্মপন্থা প্রয়োগ ও বিনিময় ; 
(ঙ) সমাজের সুবিধা বঞ্চিত বা বিশেষত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুবিধা প্রাপ্ত জীবনমান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় কার্যক্রমের মাধ্যমে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা।
 
পরিষদের কার্যাবলি : 
 
(ক) সমাজের সকলের, বিশেষত, নারী, শিশু, অনগ্রসর, সুবিধাবঞ্চিত বা কম সুবিধাপ্রাপ্ত, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী, অসহায়, দুর্বল, অক্ষম, শারীরিক, মানসিক, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী, বা অন্যবিধ কারণে পূর্ণাক্সগ বা আংশিক অক্ষম, দুর্যোগে বিপদাপন্ন বা ক্ষতিগ্রস্ত, নদীভাক্সগনে ভিটামাটিহীন ক্ষতিগ্রস্ত বস্তিবাসী, চা-বাগান শ্রমিকসহ দারিদ্রসীমার নীচে বসবাসকারী জনগোষ্ঠী, নিম্ন আয়ের ব্যক্তি, গোষ্ঠী, শ্রেণি বা সম্প্রদায়ের সার্বিক জীবনমান বা আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে আর্থিক অনুদান প্রদান করা;
(খ) সমাজকল্যাণমূলক কার্যে নিয়োজিত বা আগ্রহী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ঋণ, অনুদান ও স্বীকৃতি প্রদান করা;
(গ) সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাÐের সহিত জড়িত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা; 
(ঘ) সামাজিক সমস্যা চিহ্নিতকরণ, সমস্যার কারণ এবং প্রতিকারের উপায় নিরূপণে গবেষণা পরিচালনা করা;
(ঙ) সামাজিক গবেষণার জন্য দেশি-বিদেশি স্বীকৃত ও মানসম্পন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বা বিশ^বিদ্যালয়ের সহিত চুক্তি সম্পাদন ও গবেষণা পরিচালনার ব্যবস্থা গ্রহণ করা;
(চ) সমাজকল্যাণমূলক বিদেশি, আন্তর্জাতিক, বহুজাতিক, বৈশি^ক সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠীর সহিত যোগাযোগ ¯া’াপন এবং হালনাগাদ ধারণা, তত্ত¡, তথ্য, কৌশল, কর্মপন্থা ও উপায় সম্পর্কে জ্ঞান ও তথ্য সংগ্রহ এবং অভ্যন্তরীণ প্রেক্ষাপটে উক্ত কার্যাবলির প্রয়োগযোগ্যতা বিশ্লেষণ এবং ফলাফল নিয়মিতভাবে সরকারকে অবহিত করা;
(ছ)  জাতীয় পর্যায়ে সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাÐে সম্পৃক্ত সকল ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা সংস্থার  মধ্যে সমন্বয় সাধন করা;
(জ) দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক নিরাপত্তা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কর্মসূচি বা প্রকল্প গ্রহণ ও অনুমোদন করা;
(ঝ) সমাজের অস্বচ্ছল রোগীদের চিকিৎসা সহায়তা প্রদান, এতদুদ্দেশ্যে রোগী কল্যাণ সমিতি গঠন এবং ইহার কার্যক্রম তদারকি করা;
(ঞ) সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাÐে জনসম্পৃক্ততা তৈরির লক্ষ্যে প্রচার, প্রচারণা, সভা, সমিতি, সেমিনার সিম্পোজিয়াম ও কর্মশালার আয়োজন করা;
(ট) পরিষদের কার্যক্রমরে বার্ষিক, পঞ্চবার্ষিক ও বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করা;
(ঠ) অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সহায়ক যে কোনো উন্নয়নমূলক কর্মকাÐ গ্রহণ করা; এবং
(ড) বাংলাদেশ সমাজ কল্যাণ পরিষদ আইন ২০১৯ উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, প্রয়োজনীয় অন্যান্য কার্যাবলি সম্পাদন করা।